✕
press2-header-icon1

টেস্ট পোস্ট

October 24, 2026

কষ্ট

October 24, 2026

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু: কলম ও নেতৃত্বের সমান্তরাল অভিযাত্রা

October 24, 2026

মাননীয় সংসদ সদস্য  ঢাকা-১৯ আসন : দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবুর সাক্ষাৎকার

রত্না মাহমুদা : আসলামুআলাইকুম ভাইয়া।  প্রথমেই জানতে চাই,  একজন লেখক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে  আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কি?

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু: জীবনের সংজ্ঞা একেকজন একেকভাবে দেয়। আমাকে যদি জীবনের সংজ্ঞার কথা জিগ্যেস করেন আমি  তাহলে বলব, যাপিত জীবনের  অনেক রকম বাঁধা বিপত্তি আসবে, সেগুলোকে হাসিমুখে, সহজভাবে মেনে নিয়ে অভিষ্ট লক্ষে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমার মানুষের সেবা করতে হবে, মানুষের জীবন যন্ত্রণাকে একজন লেখক যেভাবে খুব কাছে থেকে অনুভব করে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করে, তেমনি একজন রাজনৈতিক নেতাকে তাঁর এলাকার জনগণের সুখ- দুঃখে, হাসি- কান্নায় পাশে থেকে  সেবা করতে হবে। তাঁর বিনিময়ে আমি এমপি হলাম কি মন্ত্রী হলাম তা মূখ্য বিষয় নয়,জনগণের পাশে আমৃত্যু থাকতে হবে, মানবসেবা করতে হবে এটাই হবে রাজনৈতিক নেতার প্রকৃত জীবনপথ। পাশাপাশি একজন  লেখক হিসেবে কিছুদিন পরপর পাঠকের উদ্দেশ্যে পাঠক সমাদৃত বই লিখতে হবে,সেটা কবিতা, গল্প,উপন্যাস, নাটক,ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা কিংবা অন্য কোনোকিছু।  পাঠক -লেখকের যে বিষয়টা গ্রহণ করবে তা নিয়েই লেখকের জীবনযাপন রীতি হওয়া জরুরি। পাঠকের প্রত্যাশা পূরণের অভিপ্রায়ে লেখক ব্রত থাকা,রাজনৈতিক নেতার জীবনেও সাধারণ জনগণের অভিপ্রায়ে নিজেকে নিয়োজিত রাখার নামই জীবন।

রত্না মাহমুদা : আপনার শৈশব ও পারিবারিক জীবন,  রাজনীতিবিদ পিতার সুযোগ্য পুত্র ও নাড়িমাটি জিরাবোর সন্তান হিসেবে জিরাবোর  কিছু ঘটনা যদি প্রকাশ করতেন। নব্য বিবাহিত  একজন পুরুষ,  সদ্য  প্রয়াত পিতার রাজনীতির আদর্শ  এবং নব্য ডাক্তারি পেশায় অভিযাত্রায় রাজনীতে পদার্পণ করার কাহিনিটা সবার উদ্দেশ্যে যদি বলতেন।

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু :

আমার জন্য রাজনীতিতে নব- অভিযাত্রার আত্মপ্রকাশ করা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল, আমার বাবা দেওয়ান মোহাম্মদ ইদ্রিস  টানা ৪৫ বছর জিরাবো এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন,গ্রামের  মানুষের সেবা করছেন, নিজের যাপিত জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জনগণের সেবা করেছেন,তিনি ১৯৯০ সালে প্রয়াত হন। মারা যাওয়ার পর আমার কর্মস্থলে এসে বাবার বয়সী লোকজনরা কানে কানে বলে যায়,  এটা তোমার জায়গা না,তোমার কাজ চিকিৎসা সেবা নয়, তোমার কাছ এলাকার মানুষের সামগ্রিক দায়িত্ব নেওয়া, এখানে পরে থাকলে চলবে না বাবা, তোমাকে রাজনীতির মাঠে নামতে হবে। প্রথমে আমার সে ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না,কিন্তু সদ্য বিধবা হওয়া মায়ের সাহস ও অনুপ্রেরণা, গ্রামের মুরুব্বিদের চাপে  আমায় নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তাঁদের পরামর্শে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির মাঠে আসতে বাধ্য হই। তবে নমিনেশন পাওয়ার জন্য আমার অনেক কাঠখোর পোহাতে হল। টানা পাঁচ-ছয় মাস খুব কঠিন মুহূর্তের মধ্যে কেটেছে। ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ সালে আমি স্বইচ্ছায় চাকরি ছাড়ি, ১৫ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে নমিনেশন পেয়ে যাই, তখনকার সময়টায় আমায় কেউ গুরুত্ব দিত না, কেউ আবার ভাবতেন জীবনের হুমকি হতে পারে, কেউবা প্রতিপক্ষ মনে করে নানাভাবে আঘাত করার চেষ্টা করেছে। এরপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। জনগণের ভোটে, জনগণের রায়েই আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম, এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে আমি মনে করি।

এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনেও আমি জনগণের রায়েই তৃতীয়বারের মতো সাভার- আশুলিয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। যদিও  সতেরো বছর কেটেছে হয় জেলে, না হয় আত্মগোপনে আবার দেশ- বিদেশের নানাপ্রান্তে। একবার যখন একটা রুটে হাঁটছি সে রুট থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমার পিতার মত মানবসেবা করে যেতে চাই।

রত্না মাহমুদা : আপনার একটি বই আছে যেটি কোনো বাংলা বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ, বইটির নাম ‘Jail my Home ‘- এ বইটির নামকরণে বলতে হয় লেখক জেলকে নিজের বাড়ির সঙ্গে তুলনা করছেন। এ গ্রন্থটি নামকরণে আপনার মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা আমায় গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নামকরণের মূলকারণটা যদি পাঠকদের উদ্দেশ্যে শেয়ার করতেন।

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু : আমি রাজনৈতিক কারণে ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়, মিথ্যা মামলায় নানাভাবে জেল খেটেছি। ২০১২ সালে প্রথম আমি জেলে যাই। একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে জেলে আমার জন্য একটি আলাদা কক্ষ,আলাদা টয়লেট, একটা খাট পাই। আরও কিছু বিশেষ সুবিধা জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের দিয়ে থাকেন, সে সুবিধা গুলো কাজে লাগিয়ে অবসর সময়ে জেলে বসে লেখালেখি শুরু করি। তখন মনে হতো  এই জেলখানাটাই আমার ঘর, আমার বাড়ি, এখানে আমি চাইলেও তাঁদের জেলেখানার নিয়মের বাইরে অন্যকিছু করতে পারব না, তাঁদের নিয়মের মধ্যে থপকেই বইটা রচনা করতে হয়েছে, যে কোনো বইয়ের নামকরণের পেছনে আবেগ থাকতে হয়। আমার ইচ্ছে ছিল বইটির নামকরণ করব আমার জেল আমার ঘর। এটির ইংরেজি সংস্করণের নামকরণটা আমার ছেলে করেছে। আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী আমার কাছে মনে হয় এটি আসলেই একটি দুঃসাহসিক কাজ, আমার বইয়ের এ নামকরণটা এতটা সমাদৃত হবে কোনোদিন ভাবিনি। তবে আজ মনে হল এ নামকরণটি যথার্থ হয়েছে।

রত্না মাহমুদা: কোন পরিচয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?  একজন ডাক্তার, একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা একজন সংসদ সদস্য নাকি একজন কথাচিত্রী।

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু : দেখেন পরিচয় যতগুলোই থাকুক। মানুষ কিন্তু আমি একজনই। আমি নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, ডাক্তার হতে গিয়ে অনেকগুলো বছর শ্রম- মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হয়েছে। আমার ক্যাডেট কলেজের জীবন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কাহিনিগুলো  এখনো স্মৃতিকে তাড়িত করে! আমার বাবার অর্থ ছিল সেই অর্থকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে গর্বিত সন্তান হতে পারলাম কিনা জানি না তবে এইটুকু বলব যে আমার যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি,আর যদি বলেন রাজনৈতিক নেতা, রাজনীতির মাঠে আমি নেতা, কতোটা আদর্শ নেতা হতে পেরেছি জানিনা, তবে তিনবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বলব জনগণের আস্থা- ভরসা অর্জন করতে পেরেছি। আর যদি বলেন কথাচিত্রী হিসেবে আমার পথচলা সেখানেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, এ প্রসঙ্গে বলতে হয় আমার ক্যাডেট কলেজ জীবনের এক অপূর্ব অভিজ্ঞতার কথা। কবিতার নেশায়  খাতা ভরে ভরে কবিতা লিখে ফেলেছি, আমার বাবার কাছে শিক্ষক অভিযোগ আপনার ছেলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কবিতা লেখা শুরু করেছে, সেদিন ছুটিতে বাড়িতে এলে কবিতা লেখার ভূত মাথা থেকে ছাড়ালেন উত্তম- মাধ্যম দিয়ে! এরপর থেকে আমার সাহিত্যের প্রতি টান থাকলেও কবিতা লেখা হয়নি!

রত্না মাহমুদা :অতি সম্প্রতি জাতীয় সংগীত পরিবর্তন নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় অনেক রকম মব কালচারও তৈরি হয়েছে,  শুধুামাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় বলে। সেক্ষেত্রে আপনার অভিমত কী?

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু: দেখেন আমার  কলেজের বাংলা শিক্ষক বলতেন বাংলা সাহিত্যে আড়াইজন সাহিত্যিক রয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র এবং মাইকেল মধুসূদন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকে অস্বীকার করার মত ধৃষ্টতা আমার নাই। কারণ মেডিকেল লাইফেও আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বই সংগ্রহ করতাম – পড়তাম। শুধু যে তিনি যে তা নয় আরও অনেকের লেখাই আমি পড়তাম।এত অল্প সময়ে তাঁকে নিয়ে কথা বলে শেষ করা যাবে না, সরকার নির্বাচন করেছে জনগণের স্বার্থে, সে উন্নয়ন যদি জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের জন্য হয় তাহলে বলব এটা একধরনের হীন মানসিকতার পরিচয়।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু ভারতের নাগরিক বলে, তার লেখা জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করতে হবে! এটা তো জাতীয় ব্যাপার এ ব্যাপারে কারোর কোনো মন মানসিকতা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি না, শ্রীলংকায়ও আছে তাঁর লেখা গান।তাই বলে উন্নয়ন করতে এসে দেশের জাতীয় সংগীতে হাত দিতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে!  এটা অনুচিত। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আগে যেভাবে বিবেচনা করতাম এখন হয়তো আরও গভীরভাবে আবিষ্কার করি। একটা সময় পর যাঁরা পরিবর্তন করার কথা বলছেন তাঁরাও পরিণত চিন্তায় এসে বলবেন, নাহ আমরা ভুল করেছিলাম। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রপ্ত করা এত সহজ কাজ নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।

রত্না মাহমুদা :  ইচ্ছায় – অনিচ্ছায় আপনার পৃথিবীর  নানাদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলেন শিক্ষা- চিকিৎসা – সাহিত্য – সংস্কৃতি – ইতিহাস – ঐতিহ্যে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি পিছিয়ে নাকি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আগাতে পেরেছে? সেক্ষেত্রে আপনার মতামত প্রত্যাশা করছি। বিশেষ করে আমাদের দেশের  শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা দরকার কিনা?

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু :

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে এটা জরুরি। কেন না আমরা মুখস্থ বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কৌশল ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেই না, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল – সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা জরুরি। পৃথিবীর নানা দেশেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দিতে হবে। ক্লাসের পড়া মুখস্থ করে পরীক্ষায় বসাকেই শিক্ষার মানদণ্ড বিচার হয় না, সেজন্য দেশের অনেক মেধাবীদের দেখেছি বিদেশে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে অপরাগ। আবার কিছু কিছু মেধাবীরা যোগ্য স্থান অর্জন করতে পারে।গুরুমুখী বিদ্যা,গলধকরণের নিয়ম থেকে বের হয়ে সৃজনশীল- কারিগরি – গবেষণার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাহলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও বেশি উন্নত হবে ও আগামীতে মেধাবীরা আমার দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

রত্না মাহমুদা: লেখকরা সহজে ভুল স্বীকার করে না, আপনি অনায়াসে একটি বইয়ের ভূমিকায় ভুল স্বীকার করেছেন!  তাঁর কারণ কি?

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু : দেখেন ভুল স্বীকার করলে আপনি ছোট হয়ে যাবেন না, বিনয়ী হওয়া  মানুষের  মৌলিক গুণ, সে গুণ দিয়ে আপনি বিশ্বকে জয় করতে পারবেন। আমি যেকোনো ভুলকে সহজে স্বীকার করি ও মেনে নেওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পারিবারিক শিক্ষা ও জীবনের আদর্শ বলতে পারেন।স্মৃতিতে আমেরিকা বইটিতে আমি ভুল স্বীকার করেছি এজন্য কারণ ভ্রমণ কাহিনি তো অনেক প্রাজ্ঞ সাহিত্যিকরা রচনা করে গেছেন, তাই  আমার খামতিগুলো পাঠকের উদ্দেশ্যে স্বীকার করে গেলাম।

রত্না মাহমুদা: ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ বইটি পড়লে জানতে পারা যায়  আপনাকে নিয়ে নানাজনের  নানা মতামত,  পারস্পরিক সম্পর্ক  লায়ন্স ক্লাবের স্মৃতিকথন।  সে বিষয়ে যদি কিছু বলতেন।

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু:

লায়ন্স ক্লাব আমার আবেগ, ভালোবাসা ও আস্থা ভরসার আরেক কর্মস্থল। এখানে আমি জীবনের অনেকটা সময় অতিবাহিত করেছি। লিওদের সঙ্গে থেকেছি কাজ করেছি।লায়ন্স ক্লাবে আমি যোগ দিই ২০০২ সালে। সক্রিয়ভাবে কাজ করি ২০১৯ সালে। বছরে নানারকম অনুষ্ঠান ও মিলন মেলার আয়োজন করে, জেলাভিত্তিক অনেক আয়োজন ও হয়ে থাকে। আমি চেষ্টা সবসময় সেখানে উপস্থিত থাকার। আমি তাঁদের নির্বাচিত একজন গর্ভনর। সে দায়ের জায়গা থেকে অনেক লিডারশিপ আয়োজনেও কাজ করতে হয়েছে। লিওদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে হয়েছে। ২০১৯-২০২৫ এ সময়টায় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী  হয়েছে। আমার দায়িত্ব না থাকলেও এখনও তাঁরা ডাকলে আমি সাড়া দিই, সাহায্য করার চেষ্টা করি। আগামীতেও যতই ব্যস্ত থাকি না কেন আমি লায়ন্সক্লাব ও লিওদের পাশে থাকব।

রত্না  মাহমুদা :দক্ষিণারঞ্জনমিত্র মজুমদার  সাভারের উলাইলের সন্তান, শতবর্ষ পেরিয়ে  তিনি এখনও জীবন্ত কিংবদন্তির ন্যায় জ্বল জ্বল করছে, তাঁর ফোকলোর চর্চা সমগ্র বাংলা সাহিত্যকে রিপ্রেজেন্ট করে, বলতে গেলে ভারতবর্ষের ফোকলোরিক ইতিহাস ঐতিহ্যকে রিপ্রেজেন্ট করে।  একজন ফোকলোর গবেষক হিসেবে আপনার কাছে জানতে চাওয়া, তাঁকে অমর রাখতে তাঁর কর্মের মূল্য দিতে সাভারবাসী ও সাভারের সাংসদ কী ভূমিকা পালন করবেন?

দেওয়ান মোহাম্মদ সাালহউদ্দিন বাবু: দেখেন আমি যদি ভুল না করি, দক্ষিণারঞ্জনমিত্র মজুমদারের জন্মবার্ষিকীতে মেলা করে আমিই সর্বপ্রথম সাভারবাসীকে জানাই তিনি আমাদের কিংবদন্তি ফোকলোর সংগ্রাহক ও একজন ঋদ্ধ সাহিত্যিক।

আপনার প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়,  এখন যেহেতু দায়িত্বে রয়েছি আগামী বছর তাঁর জন্মবার্ষিকী খুব বড় করে আয়োজন করবো,  এ বছর আমি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলাম। তাই আয়োজন করতে পারিনি। তবে আগামী বছর অবশ্যই তাঁকে নিয়ে বিরাট একটি আয়োজন করার প্রত্যাশা করছি, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিববছর তাঁর নামের ব্যানারে আমরা একটা সংগঠন করে, সেখানে সেমিনার-আলোচনা -সাহিত্য আসরের ব্যবস্থা করব। যেখানে দেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ফোকলোরবিদরা উপস্থিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি। কারণ সাভারবাসীর খুব ভালো করে জানা দরকার তাঁর অবদান সম্পর্কে। ভারতীয়রা দাবি করেন তিনি ভারতের রত্ন, নাহ তিনি আমার বাংলাদেশের সাভারের সন্তান,সেটিই গর্বের ও অহংকারের ব্যাপার।

রত্না মাহমুদা : সবশেষে জানতে চাই, কাহলিল জিবরানের হাসকেলার,মাইকেল মধুসূদন দত্তের  হেনরিয়েটা, আর আমি বলব দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবুর সাবিনা সিদ্দিকা রিতা। তাঁর অবদান আপনার জীবনকে কতটা গতিশীল করেছেন!

 দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু :

দেখেন সাহিত্যিকদের জীবনদর্শন নিয়ে মন্তব্য করব না,তবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন সম্পর্কে কিছুটা জানি, তিনি বহু বিবাহ করেছেন, তাতে করে তাঁর জীবনে হেনরিয়েটা কতটা অবদান রেখেছে জানিনা, কিন্তু আমি বলব রিতাকে যোগ্য সহধর্মিণী হিসেবে  সারাজীবন কাছে পেয়েছি। জেলে থাকলে, কোথাও এরেস্ট হলে, কিংবা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালে ওর মত বিমর্ষ চেহেরা আর কারোর ছিলো না। রিতার অবদান আমার রাজনৈতিক জীবন, সংসার জীবন – লেখক জীবন সবক্ষেত্রেই প্রশংসনীয়। আমি প্রত্যাশা করব ওর মত যোগ্য সহধর্মিণী সকল পুরুষের জীবনেই আসুক।

সবার জীবনকে আলোকিত করুক তাঁর জীবনসঙ্গী।

রত্না মাহমুদা : শত ব্যস্ততার মাঝেও আমায় এত সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবু : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

Topics:

    The best option to stay updated

    for only
    $5.99
    annually
    Read next