✕
press2-header-icon1

জীবন্ত বই

August 17, 2026

টেস্ট পোস্ট

October 24, 2026

    সাভারের শেকড় থেকে মানুষের হৃদয়ে — ওবায়দুর রহমান অভি

    August 17, 2026

    সাভারের মেয়রপদপ্রার্থী - ওবায়দুর রহমান অভি-র সাক্ষাৎকার

    সাক্ষাৎকার গ্রহনে - রত্না মাহমুদা

    রত্না মাহমুদা : আসলামুআলাইকুম ভাইয়া, প্রথমেই জানতে চাই, সাভার একটি জনবহুল এলাকা। সে অর্থে বলতে গেলে এখানে সরকার কর্তৃক বাজেট খুব কম? বৃহত্তর সাভারের ক্ষেত্রে কীভাবে সরকারের পরিকল্পনা করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
    ওবায়দুর রহমান অভি : ওলাইকুমসালাম, আমি মনে করি,
    বর্তমানে সাভার অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি নগর অঞ্চল। কিন্তু জনসংখ্যা ও শিল্পাঞ্চলের তুলনায় সরকারি বাজেট এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। সাভারের জনগণের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, বৃহত্তর সাভারের জন্য আলাদা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
    বিশেষ করে সড়ক উন্নয়ন, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূর করা, স্বাস্থ্যসেবা ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আশুলিয়া, হেমায়েতপুরসহ পুরো বৃহত্তর সাভারকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনার আওতায় এনে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা উচিত।

    রত্না মাহমুদা : কেন আপনি সাভারের মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী হলেন?

    ওবায়দুর রহমান অভি: দেখেন, সাভার আমার শেকড়, আমার আবেগের জায়গা। ছোটবেলা থেকেই আমি এই জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ খুব কাছ থেকে দেখেছি। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি—সাভারের উন্নয়নে পরিকল্পিত ও জনবান্ধব নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি।
    আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী হয়েছি মূলত মানুষের সেবা করার দায়বদ্ধতা থেকে। আমি চাই একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন সাভার গড়ে তুলতে, যেখানে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান থাকবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশ পাবে এবং গরিব-দুঃখী মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।
    রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার পথ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার থেকেই আমি সাভারের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে কাজ করতে চাই।

    রত্না মাহমুদা :
    সাভারকে নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত স্বপ্ন সম্পর্কে জনগণ ও পাঠককে যদি কিছু বলতেন?

    ওবায়ুদর রহমান অভি :
    আমার স্বপ্নের সাভার হবে একটি মানবিক ও আধুনিক নগরী, যেখানে গরিব-দুঃখী মানুষ অবহেলিত থাকবে না। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি, তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
    আমি চাই সাভারে এমন উন্নয়ন হোক, যা শুধু অবকাঠামোতে নয়, মানুষের জীবনমানেও পরিবর্তন আনবে। তরুণদের জন্য সুযোগ, নারীদের নিরাপত্তা এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার স্বপ্ন। জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সাভার গড়তে চাই।

    রত্না মাহমুদা : আপনার মতে সাভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি?
    ওবায়দুর রহমান অভি :

    আমার মতে সাভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক ভোগান্তি। জনসংখ্যা ও শিল্পকারখানা বাড়লেও সেই অনুপাতে সড়কব্যবস্থা, ড্রেনেজ, যানজট নিরসন ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
    এ ছাড়া জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক পরিকল্পনা ও জনবান্ধব নেতৃত্ব থাকলে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব।

    রত্না মাহমুদা :

    সাভারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার ভাবনা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন, আজ আবার নতুন করে যদি সবাইকে বলতেন ।
    ওবায়দুর রহমান অভি :

    সাভারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়তে হলে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সচেতনতা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
    আমি চাই প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠুক, যাতে রাস্তায় ময়লা না জমে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্ন সাভার গড়তে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।

    রত্না মাহমুদা :

    সাভারের নাগরিকদের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সরাসরি অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখবেন কি?

    ওবায়দুর রহমান অভি :

    জি, আমি অবশ্যই চাই নাগরিকদের জন্য সরাসরি অভিযোগ জানানোর একটি কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে। কারণ মানুষের সমস্যা শোনা ও দ্রুত সমাধান করাই একজন মেয়রের প্রধান দায়িত্ব।
    আমি এমন একটি স্বচ্ছ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ তাদের অভিযোগ ও পরামর্শ সরাসরি জানাতে পারবে এবং দ্রুত সমাধান পাবে। এতে প্রশাসন আরও জবাবদিহিমূলক হবে এবং নাগরিক সেবাও দ্রুত পৌঁছাবে।

    রত্না মাহমুদা :
    একজন নাগরিক কেন আপনাকেই ভোট দেবে বলে আপনি মনে করেন? কারণ সে আত্মবিশ্বাস আপনাকে কতটুকু প্রেরণা জুগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

    ওবায়দুর রহমান অভি:

    আমি মনে করি, একজন নাগরিক আমাকে ভোট দিতে পারেন কারণ আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং তাদের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখি। আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সেবার জন্য।
    মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা আমাকে সবসময় প্রেরণা দেয়। এই আস্থা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে এবং জনগণের জন্য কাজ করার শক্তি যোগায়।

    রত্না মাহমুদা : একজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে নয়, সাভারের সন্তান হিসেবে এ নগরকে কীভাবে দেখেন?

    ওবায়দুর রহমান অভি :
    একজন মেয়র প্রার্থী তো পরের কথা, সাভারের সন্তান হিসেবে আমি এই নগরকে দেখি আমার পরিচয় ও শেকড় হিসেবে। এই মাটি ও মানুষই আমাকে গড়ে তুলেছে।
    সাভার আমার কাছে সম্ভাবনার এক জনপদ, যেখানে পরিশ্রমী মানুষ কষ্টের মাঝেও স্বপ্ন দেখে এগিয়ে যায়। তাই এই নগরকে আমি শুধু উন্নয়নের জায়গা হিসেবে নয়, মানুষের জীবন, আবেগ ও সংগ্রামের কেন্দ্র হিসেবে দেখি।
    আমার ইচ্ছা, সাভারকে এমনভাবে গড়ে তোলা—যেখানে প্রতিটি মানুষ গর্ব করে বলতে পারে, ‘এটাই আমার সাভার’।

    রত্না মাহমুদা :
    জুলাই বিপ্লবের সময় আপনার বাসায় প্রশাসনের লোকজন এসে সবকিছু ভেঙ্গে দিয়ে গেছে, এটা একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কতটা পীড়াদায়ক? কারণ এখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি?

    ওবায়দুর রহমান অভি :
    জুলাই বিপ্লবের সময় আমার ব্যক্তিগত জীবনে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ছিল। আমার পরিবারের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত বাসস্থান সবকিছুই তখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
    একজন নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার হলো তার জীবন, সম্পদ ও বাসস্থানের নিরাপত্তা। সেই জায়গায় আঘাত লাগা শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিকভাবেও গভীর দাগ রেখে যায়। আমার বাবা-মাকেও সে সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁদের নিরাপদজীবন রক্ষার্থে হাসপাতালের আইসিওতে আত্মগোপন করে রাখতে হয়েছে। স্ত্রী সন্তানরাও বাড়ির বাইরে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।
    তবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি—ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়েও বড় বিষয় হলো ন্যায়, মানবিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আমি চাই, ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককেই যেন এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।

     

    রত্না মাহমুদা : ব্যক্তিগতভাবে আপনি দানশীল, অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের একজন মানুষ, বাবা মায়ের শিক্ষিত সন্তান, আপনি একদিকে মসজিদ করে দিচ্ছেন, অন্যদিকে মন্দির গড়ে দিচ্ছেন, কোথাও আবার কীর্তন ভজন অনুষ্ঠান হলে সেখানেও প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকছেন! সেক্ষেত্রে জনগণের কাছে আপনার একটা আস্থা ভরসার জায়গা তৈরি হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?
    ওবায়দুর রহমান অভি:
    আমি সবসময় বিশ্বাস করি, মানুষের পরিচয় তার মানবতা দিয়ে, ধর্ম বা ভিন্নতা দিয়ে নয়। বাবা-মায়ের কাছ থেকে আমি শিখেছি, মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধই প্রকৃত শিক্ষা।
    তাই আমি চেষ্টা করি সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের পাশে থাকতে—কখনো মসজিদ, কখনো মন্দির, আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যেকোনো আয়োজনে। আমার কাছে এগুলো বিভাজনের নয়, সম্প্রীতির জায়গা।
    জনগণের এই ভালোবাসা ও আস্থা আমার জন্য বড় প্রেরণা। আমি চাই সাভারে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে সবাই মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারে।

    রত্না মাহমুদা:

    গত কয়েকদিন আগে মরমি কবি ভবা পাগলার ১০১ তম ওরশে আপনি প্রধান অতিথি হয়ে গেলেন তাও সাভারের বাইরের কোনো একটা জায়গায় এ অর্জন আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করছে?

    ওবায়দুর রহমান অভি :

    মরমি কবি ভবা পাগলার ১০১তম ওরশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়া আমার জন্য একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ছিল। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাউল-লোকসংস্কৃতির মানবতা, সম্প্রীতি ও দর্শনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ।
    এই ধরনের আয়োজন আমাকে আরও বেশি মানবিক, সহনশীল ও সংস্কৃতিমনস্ক হতে অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের লোকঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মানুষের ভেতরের বিভেদ কমিয়ে একতার জায়গা তৈরি করে। কারণ তাঁরা এমন মানুষকেই অতিথি করেন যারা মানবসেবা করেন। আমি মনে করি নির্মোহ মানবসেবার প্রকৃত মূল্যায়ন তাঁরা করেছেন! এই অভিজ্ঞতা আমার দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করেছে।


    রত্না মাহমুদা:

    সবশেষে আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কি? জীবনকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?

    ওবায়দুর রহমান অভি:
    আমি মনে করি,
    বিলাসবহুল জীবনযাপন করেও অসহায় মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের জীবনের সকল প্রয়োজনকে আমার নিজের প্রয়োজন মনে করার নামই জীবন। আমি রাজপ্রাসাদে শুয়ে থাকব আর আমার এলাকার সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকবে তাঁকে জীবন বলে না, জীবনে আপনার উপস্থিতি যদি কোনো অসহায় মানুষের উপকারে আসে তাহলে তার নামই প্রকৃত জীবন। দামি গাড়িতে চড়ে, বিলাসি বিছানায় শুয়ে থেকেও যাঁরা গরিবকে সাহায্য করে তাঁরাই জানে জীবনের প্রকৃত সংজ্ঞা।
    রত্না মাহমুদা :
    আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমায় এত সময় দেওয়ার জন্য।

    ওবায়দুর রহমান অভি : আপনাকেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

    Topics:

      The best option to stay updated

      for only
      $5.99
      annually
      Read next
      October 24, 2026

      শালুকের দিকে হাঁটা : কবি ময়ুখ চৌধুরী স্যারের ক্লাস

      বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনগুলোর কথা এখন মনে হলে মনে হয় আমরা কোনো বিভাগে ভর্তি হইনি, বরং এক অদৃশ্য দরজার ভেতর ঢুকে পড়েছিলাম। দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়ুখ […]
      October 24, 2026

      একটি সংলাপ: নির্বাণের শহরে বুদ্ধ ও মীরা

      ফারজানা অনন্যা প্রভাতের সংলাপ: ঢাকা শহরের সকালটা এবসার্ডিটির মতো নিষ্প্রভ পরম্পরাহীন। ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষদের চোয়ালের নিচে ঝুলে আছে ধোঁয়ার মতো অস্পৃশ্য নাগরিক ক্লান্তি। কারওয়ান বাজারের […]
      October 24, 2026

      রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের অবরোধবাসিনীতে পর্দাপ্রথার অন্দরমহল

      রত্না মাহমুদা পুরুষের আধিপত্য, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলার মহৎ মানবীর নাম বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২)।নারী পুরুষ ভেদাভেদ প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে।নারীকে নারী […]